
ভিনদেশে কঠোর পরিশ্রম আর সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি, ছুটি নিয়ে পরিবারের কাছে ফেরার প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না জীবিত অবস্থায়। সৌদি আরবে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করা মো. হারুন অর রশিদ পাভেল দেশে ফিরেছেন কফিনে বন্দি হয়ে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থানে পাভেলের দাফন সম্পন্ন হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক নজর শেষবার দেখার জন্য আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভানুধ্যায়ীরা ভিড় করেন। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের স্তব্ধতা।
হারুন অর রশিদ পাভেল সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় চারিগাঁও গ্রামের ছুনু মিয়াজি বাড়ির বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন বালাগাত উল্লাহর ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝো। তার স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যান পাভেল। সেখানে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সমস্যা ও জন্ডিসে ভুগছিলেন। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
পাঁচ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ২৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১০ মিনিটে রিয়াদের কিং সৌদ সিটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহতের ভাই সৌদি প্রবাসী আলমগীর হোসেন বলেন, “আমার ভাই মাত্র দুই বছর হলো সৌদি গেছে। ছুটি নিয়ে দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে আসলো লাশ হয়ে। আমাদের পরিবারের জন্য এটা অপূরণীয় ক্ষতি।”
নিহতের মামাতো ভাই নুর হোসেন বাবলু বলেন, “পাভেলের ব্যবহার ছিল খুবই ভালো। সবসময় হাসিমুখে কথা বলত। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজায় অংশ নিতে বিপুল মানুষ জড়ো হয়েছিল।”
ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া মা রাজিয়া বেগম বলেন, “ছেলেটা বিদেশ গিয়ে আমাদের সুখের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। ছুটি নিয়ে বাড়ি আসার কথা ছিল। আমি প্রতিদিন অপেক্ষা করতাম কিন্তু আমার বুকের ধন আর ফিরল না। আল্লাহ আমার ছেলেকে ফিরিয়ে নিলেন, আমি কিছুই করতে পারলাম না।”
সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তার বলেন, “ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সৌদি আরব গিয়েছিলেন পাভেল। কিন্তু কফিনবন্দি হয়ে তার দেশে ফিরতে হবে কেউ কল্পনাও করেনি। জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।”