
রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় সাবেক স্বামীর ধারালো অস্ত্রের হামলায় ঝুমুর আক্তার (৩৮) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে অভিযুক্ত রেজাউল, পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মধ্যবাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের ১৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছিলেন ঝুমুর। এ সময় তার সাবেক স্বামী রেজাউল অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এলোপাতাড়ি আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি।
ঝুমুরের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে রেজাউল ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঝুমুরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ঝুমুর আক্তারের বাড়ি বরিশাল জেলায়। তার বাবা জাফর হাওলাদার। স্বজনদের ভাষ্য, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি হোটেলকর্মী রেজাউলকে বিয়ে করেন। বাড্ডা এলাকায় দুই থেকে তিন বছর একসঙ্গে বসবাসের পর দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় এক বছর আগে তাকে তালাক দেন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে গিয়ে এক প্রবাসীকে বিয়ে করেন।
ঝুমুরের দূরসম্পর্কের আত্মীয় মনিকা আক্তার জানান, দুই থেকে তিন দিন আগে বরিশাল থেকে ঢাকায় এসে বর্তমান স্বামীর মিরপুরের বাসায় ওঠেন ঝুমুর। মঙ্গলবার সকালে তিনি মধ্যবাড্ডায় মনিকাদের বাসায় বেড়াতে যান। বিকেলে মনিকা ও তার মা অজিফা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে বের হলে রেজাউল তাদের অনুসরণ করেন। তবে তারা বিষয়টি টের পাননি।
সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার সময় বাড়ির গেটের সামনে পেছন দিক থেকে এসে ঝুমুরের ওপর হামলা চালান রেজাউল। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে তিনি পালাতে পারেননি এবং ঘটনাস্থলেই আটক হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।