
আন্দোলনের সুর বদলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। তবে রাজপথ ছাড়েনি তারা; বরং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারসহ সরকারের কাছে নতুন ৬ দফা দাবি পেশ করেছে আন্দোলনকারীরা।
আজ বুধবার এক আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন:
‘আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই না। আমরা চাই, তিনি আমাদের ছয় দফা দাবি মেনে নেবেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি না করে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করবেন।’
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মূল বিষয়সমূহ
আন্দোলনকারীদের নতুন দাবিনামার মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো:
ঐচ্ছিক পরীক্ষা ও উচ্চতর নম্বর গণনা: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছেন, তারা চাইলে যেন পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান। এই ক্ষেত্রে আগের পরীক্ষা ও নতুন পরীক্ষার মধ্যে যেটিতে শিক্ষার্থী বেশি নম্বর পাবেন, সেটিই চূড়ান্ত ফলাফলে যোগ করতে হবে।
ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর ও পরীক্ষা স্থগিত: প্রশ্নপত্রে যেকোনো ভুল থাকলে তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পুরো নম্বর দিতে হবে। একই সঙ্গে চলমান পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা দূর করে মূল্যায়নে পূর্ণ ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্নকাঠামো ও হলের পরিবেশ: হঠাৎ করে প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আসায় অনেক শিক্ষার্থী এই নতুন বিন্যাসের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেননি। তাই পরীক্ষার হলে পরিদর্শকদের আচরণ যেন ভীতিকর বা অস্থিরতা তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর বদলে হলে একটি শান্ত ও পরীক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার জোর দাবি জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এটি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নয়।
পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা ও সড়ক অবরোধ
গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছে শিক্ষার্থীরা।
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আজও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই উত্তরা, সায়েন্স ল্যাব ও সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এদিকে পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একদল পরীক্ষার্থী সচিবালয়ের দিকে পদযাত্রা শুরু করে। বিকেল ৪টার দিকে মিছিলটি শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে।
আন্দোলনের সূত্রপাত ও শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
এই ছাত্র আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে গত মঙ্গলবার। গত ১৩ জুলাই প্রবল বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর ওপর পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি প্রশ্নে ভুল থাকা এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগির’ সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ উঠলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ত্রুটিপূর্ণ দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
আজ বুধবার তিনি আরও একটি বিশেষ ঘোষণা দিয়ে জানান, বৈরী আবহাওয়া বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে যারা চলমান পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।