
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করে নতুন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিধান রেখে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
নতুন আইনে বিনিয়োগ, শিল্পাঞ্চল ও পিপিপি প্রকল্পের কার্যক্রম এক কর্তৃপক্ষের অধীনে আনা হয়েছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সব সেবা, অনুমোদন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেওয়ার জন্য একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার বিধানও রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০; বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আইন, ২০১৫; বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮ রহিত করা হয়েছে।
‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে। এর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য। চেয়ারম্যান হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।
চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরকার নিয়োগ দেবে। তাদের পদমর্যাদা, চাকরির মেয়াদ, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্তও সরকার নির্ধারণ করবে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের আকৃষ্ট ও ধরে রাখার উপযোগী করে তাদের চাকরির শর্ত নির্ধারণ করতে হবে।
কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের অন্য স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা যাবে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, আর্থিক ও অ-আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব অনুমোদন, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করবে কর্তৃপক্ষ।
বিদেশি কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, কর্মচারী ও পরামর্শক নিয়োগের শর্ত নির্ধারণ, ভিসার সুপারিশ ও কর্মানুমতি দেওয়া, বিনিয়োগ চুক্তির খসড়া তৈরিতে সরকারকে সহায়তা এবং শিল্পের তথ্যভাণ্ডার তৈরির দায়িত্বও তাদের থাকবে।
সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব অধিকতর উপযোগী অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহার, হস্তান্তর, ইজারা বা কৌশলগত বিক্রয়ের বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেবে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি হবেন প্রধানমন্ত্রী বা তার মনোনীত ব্যক্তি। অর্থ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পররাষ্ট্র, ভূমি, শিল্প, বাণিজ্য এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা বোর্ডের সদস্য হবেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও বেসরকারি খাতের চার প্রতিনিধি বোর্ডে থাকবেন।
বেসরকারি খাতের চার প্রতিনিধির মধ্যে দুজন নারী হতে হবে। কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান থাকবেন বোর্ডের সদস্য সচিবের দায়িত্বে।
বিনিয়োগ বিকাশে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও পথনকশা অনুমোদন, শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন এবং শিল্পাঞ্চল ও পিপিপি প্রকল্পের সামগ্রিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে গভর্নিং বোর্ড। বছরে অন্তত দুটি বোর্ড সভা করতে হবে।
বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সব সেবা, অনুমোদন, লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও পারমিট দিতে একটি ‘সিঙ্গেল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সব সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে বাধ্যতামূলকভাবে এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। বর্তমানে চালু থাকা পৃথক ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টাল ও অন্য সেবা প্ল্যাটফর্মগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন প্ল্যাটফর্মে একীভূত বা স্থানান্তর করতে হবে।
নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কোনো সংস্থা নিজস্ব পৃথক পোর্টালের মাধ্যমে বিনিয়োগসেবা দিতে পারবে না।
প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের প্রধান বা শাখা কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সেবা ডেস্ক বসানো হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়ে সেখানে ওই সংস্থার এক বা একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যুক্ত করতে হবে।
বেসরকারি শিল্প প্রকল্প নিবন্ধনের সময় বিদেশি ঋণ, সরকারি জমি বরাদ্দ, আমদানি করা যন্ত্রপাতি ছাড়, পরিবেশ ও অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র, ভিসা, কাজের অনুমতি এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।
এসব সেবা, নিবন্ধন, লাইসেন্স, অনুমোদন, ছাড়পত্র বা অনাপত্তিপত্রের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে।
কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা দপ্তর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ বা সুপারিশ দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ।
সেই নির্দেশ বা সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বাধ্য থাকবে।
আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত নয়—এমন বেসরকারি শিল্প স্থাপন করতে নতুন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নিতে হবে। আগে স্থাপিত অনিবন্ধিত শিল্পগুলোকেও নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হতে হবে।
বিদেশে নিবন্ধিত কোনো বেসরকারি কোম্পানির বাংলাদেশে শাখা, লিয়াজোঁ অফিস, প্রতিনিধি অফিস বা প্রকল্প অফিস স্থাপনেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে।
সরকারি, বেসরকারি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং সরকার-টু-সরকার অংশীদারত্বে বিভিন্ন শ্রেণির শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার সুযোগ রাখা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ, অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকরণ, বাণিজ্যিক এবং আবাসন ও সেবামূলক এলাকাসহ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যাবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ শিল্প, জলবায়ু সহনশীলতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবহন ও মাল্টিমোডাল সংযোগ এবং ব্লু ইকোনমি ও উপকূলীয় শিল্পের জন্যও পৃথক এলাকা রাখা যাবে।
কোনো শিল্পাঞ্চল বা নিবন্ধিত শিল্প প্রকল্পের জন্য ভূমি প্রয়োজন হলে তা জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হবে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী সেই জমি অধিগ্রহণ করা যাবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত বা অব্যবহৃত জমিতে শিল্পাঞ্চল বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিয়ে কর্তৃপক্ষ সেই জমি বরাদ্দ দিতে পারবে। শিল্পাঞ্চলে ভূমি, ভবন বা জায়গা বরাদ্দ, ভাড়া বা ইজারা দেওয়া এবং ডেভেলপার ও অপারেটর নিয়োগের ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
আইন বা অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করলে শিল্প প্রকল্পের নিবন্ধন, অনুমতিপত্র, ভূমি বরাদ্দ, ইজারা বা ভাড়া স্থগিত কিংবা বাতিল করা যাবে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত বা এর বাইরের কোনো প্রকল্প সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া যাবে।
পিপিপি প্রকল্পের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। তবে ক্ষুদ্রাকার পিপিপি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অনুমোদন করতে পারবে।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা বা জনগণের বড় ধরনের দুর্ভোগ দ্রুত নিরসনের প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে কোনো প্রকল্পকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প’ ঘোষণা করা যাবে।
এই ধরনের প্রকল্প অনুমোদন, বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন ও দরকষাকষির জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি বা উপকমিটি গঠন করা যাবে।
সরকার পিপিপি প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা, আর্থিক সামর্থ্যের ঘাটতি পূরণ, প্রকল্প কোম্পানিতে ইকুইটি বা ঋণ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর জন্য অর্থায়ন করতে পারবে। সরকার গ্যারান্টিও দিতে পারবে।
কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজের উদ্যোগে অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার, পুনর্নির্মাণ বা পরিচালনার জন্য ‘অযাচিত প্রস্তাব’ দিতে পারবে।
গণপণ্য বা গণসেবা দেওয়ার বিনিময়ে প্রকল্প কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী ট্যারিফ, টোল, ফি বা চার্জ আদায় করতে পারবে।
তথ্য অধিকার আইনে ভিন্ন কিছু না থাকলে পিপিপি প্রকল্পে বেসরকারি অংশীদারের প্রাক্-যোগ্যতা যাচাই, দরপত্র, দরকষাকষি ও অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র গোপন থাকবে।
আদালতের আদেশ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি ছাড়া এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাবে না।
পিপিপি চুক্তি নিয়ে বিরোধ হলে প্রথমে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে, পরে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মধ্যস্থতায় এবং তাতেও সমাধান না হলে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
সালিশ ঢাকায় হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পক্ষগুলোর সম্মতিতে অন্য দেশেও হতে পারবে। সালিশের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবে। আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের অব্যবহৃত জমি, স্থাপনা, যন্ত্রপাতি, শেয়ার ও স্বত্ব অধিকতর উপযোগী অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহার, হস্তান্তর, বরাদ্দ বা কৌশলগত বিক্রয়ের জন্য সরকার নীতিমালা করবে।
নীতিমালা হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারের বিশেষ বা সাধারণ আদেশের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ এসব হস্তান্তর বা কৌশলগত বিক্রয় করতে পারবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সরকারি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নিতে পারবেন। অব্যবহৃত জমিও ইজারা নিতে পারবেন।
হস্তান্তর বা বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ আলাদা ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়দেনা পরিশোধ করা হবে। অবশিষ্ট অর্থ প্রজাতন্ত্রের সংযুক্ত তহবিলে জমা হবে। শ্রমিক-কর্মচারীরা যাতে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রচলিত আইন ও নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকার, কর্তৃপক্ষ বা তাদের নিয়োগ করা ব্যক্তি সরকারি ও বেসরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে পরিদর্শন ও তদন্ত করতে পারবেন। তদন্তে জনস্বার্থে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিক অসন্তোষ, ধর্মঘট বা লকআউট সৃষ্টির কার্যক্রম বা প্ররোচনায় কোনো মালিক, শ্রমিক, কর্মচারী বা ব্যবস্থাপনার ব্যক্তি জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া যাবে। এ কারণে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
কর্তৃপক্ষের পাওনা পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল বা অন্য পণ্য অপসারণ করে মূল্যায়নের পর অন্য প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া যাবে। বকেয়া সরকারি দাবি হিসেবেও আদায় করা যাবে।
সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিল্প প্রকল্প, বিনিয়োগকারী, ডেভেলপার, অপারেটর ও পিপিপি প্রকল্পকে আর্থিক ও অ-আর্থিক প্রণোদনা দিতে পারবে।
শিল্পাঞ্চলের ভেতরে এবং কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত শিল্পাঞ্চলের বাইরের শিল্প প্রতিষ্ঠানকেও বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেওয়া যাবে।
কাঁচামাল, প্যাকেজিং সামগ্রী, আধা-প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও আনুষঙ্গিক দ্রব্য আমদানি, সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য কোনো শিল্পাঞ্চল বা নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমিকে সরকারি ওয়্যারহাউজ ঘোষণা করা যাবে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন শিল্পাঞ্চল ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ প্রযোজ্য হবে। অনুমতিপত্র, ইজারা, ডেভেলপার চুক্তি বা পিপিপি চুক্তিতে শ্রমিকের মজুরি, অধিকার, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করার প্রচলিত আইনের সঙ্গে অসঙ্গত কোনো শর্ত রাখা যাবে না।
‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ তহবিল’ নামে কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকবে। সরকারি অনুদান ও ঋণ, দেশি-বিদেশি সহায়তা, ভূমি বা ভবন ইজারা ও ভাড়া, সেবা ও নিবন্ধন ফি, প্রকল্প উন্নয়ন ফি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব থেকে পাওয়া আয় ওই তহবিলে জমা হবে।
গভর্নিং বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে তহবিলের অর্থ ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল, সঞ্চয়পত্র ও মেয়াদি আমানতে বিনিয়োগ করা যাবে। গভর্নিং বোর্ডের সুপারিশ ও সরকারের অনুমোদন নিয়ে কর্তৃপক্ষ দেশি বা বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে পারবে।
বিলুপ্ত বিডা, বেজা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ অর্থ, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ, নথি, ঋণ, দায়, চুক্তি ও মামলা নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরিত হবে।
তিন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী বলে গণ্য হবেন। চাকরির শর্ত পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা আগের শর্তেই কর্মরত থাকবেন।
সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিয়োজিত ব্যক্তিরা সরকারি কর্মচারী হিসেবেই বহাল থাকবেন। অনুমোদিত পেনশন সুবিধার আওতায় থাকা কর্মীদের পেনশনও বহাল থাকবে।