
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সাদমান সাকিবকে অপহরণের ঘটনায় রাজধানীর আদাবর ও শ্যামলী কেন্দ্রিক একটি দুর্ধর্ষ ছিনতাই ও অপহরণ চক্রের মূল হোতাসহ ৯ সদস্যকে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম এই অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল ರানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) এবং মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।
পুলিশের দেওয়া বিবরণী অনুযায়ী, ঘটনার রাতে আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাবি শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছান। এ সময় হঠাৎ তিন থেকে চারজন সশস্ত্র যুবক দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে একটি অন্ধকার ও সরু গলির ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রথমে তার মোবাইল, মানিব্যাগ ও সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ লুটে নেওয়া হয়। এরপর তার পরিবারের কাছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা 'বিকাশ'-এর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম বলেন, "ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে টহল পুলিশ যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলেও জাহিদ হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।"
তিনি আরও জানান, এই অপরাধী চক্রটি সাধারণত মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় ভোরবেলার দিকে ওত পেতে থাকত। মূলত যে সমস্ত ব্যবসায়ী কাকডাকা ভোরে বাজারে মালামাল কেনার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে একা একা বের হতেন, তাদেরই টার্গেট করে অপহরণ করা হতো। এই পুরো চক্রের মাস্টারমাইন্ড বা মূল পরিকল্পনাকারী হলেন জাহিদ। জাহিদসহ গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুই আসামির বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।
ফজলুল করিম বলেন, "গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তারা আর কোথায় কোথায় একই ধরনের অপরাধ করেছে এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, এই চক্রটির অপরাধের ধরন ছিল সুনির্দিষ্ট। তারা প্রথমে অপহৃত ব্যক্তির ফোন থেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করত। এরপর মুক্তিপণের টাকা ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্টে আনিয়ে কোনো এজেন্টের দোকান থেকে ক্যাশআউট করে নিত অথবা অন্য নম্বরে সেন্ড মানি করে দিত। টাকা হাতে পাওয়ার পর ভুক্তভোগীকে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে তারা চম্পট দিত।