
এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনদের হামলার শিকার হন এক ইন্টার্ন চিকিৎসক, যার জেরে সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় হাসপাতালের জরুরি সেবা কার্যক্রম।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নাজমা বেগম নামের এক নারী রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের গাফিলতিতে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিব আহমেদকে মারধর করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রধান গেট বন্ধ করে দেন এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন।
বুধবার ২১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগের সপ্তম তলায় ঘটনাটি ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নাজমা বেগম চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীচরের বাসিন্দা। রোগীর স্বজনদের দাবি, চিকিৎসক ইনজেকশন পুশ করার পরপরই তার মৃত্যু হয়। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই উত্তেজিত স্বজনরা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক বলেন, "মারা যাওয়া রোগীটিকে নতুন ভবনে থেকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবগত আছে। পরে শুনেছি, জরুরি বিভাগের মেইন গেট বন্ধ করে রেখেছে চিকিৎসকরা।"
এদিকে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট স্বজনদের থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।