.jpg)
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা চন্দন সূত্রধর।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড় ভাই আনন্দ সূত্রধর।
চন্দন সূত্রধর বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন। তাঁর মাথায় এখনো গুলির ক্ষত ছিল বলে জানিয়েছেন সহপাঠী ও শিক্ষকরা। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায়। তাঁর বাবা অনীল সূত্রধর ও মা সন্ধ্যা সূত্রধর।
বেরোবির সাবেক সমন্বয়ক ও জুলাই যোদ্ধা শাহরিয়ার সোহাগ এক ফেসবুক পোস্টে চন্দনের চিকিৎসা ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন।
তিনি লেখেন, রংপুর মেডিকেল কলেজে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, সেখানে চন্দনের চিকিৎসা সম্ভব নয়; উন্নত চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন। মাথার খুলিতে গুলিবিদ্ধ চন্দনকে নিয়ে তাঁরা অসংখ্যবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে গেছেন। প্রতিবারই আশ্বাস পেলেও কার্যকর সহায়তা মেলেনি।
শাহরিয়ার সোহাগ আরও লেখেন, আহত শরীর নিয়েই জুলাই যোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ার জন্য চন্দন রংপুর ও মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু করে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ছুটেছেন। কিন্তু বারবার তারিখ পেছানোর কারণে তিনি গেজেটভুক্ত হতে পারেননি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে চন্দনের মাথার খুলির ভেতরে পুঁজ জমেছিল। প্রায়ই কান দিয়ে তরল বের হতো এবং রাতে ঘুমাতে পারতেন না তিনি। সবশেষে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ায় কিছুদিন আগে টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। সেখান থেকে সেরে ওঠার পর আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ত্বহা হুসাইন বলেন, ‘খবরটি শুনে আমি মর্মাহত। হঠাৎ করে তার চলে যাওয়া যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। ছেলেটি খুবই ভালো ছিল। সে একজন জুলাই যোদ্ধাও ছিল। মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে কথা হতো।’