
জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আবারও ভারত থেকে বড় চালান আসছে। আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফায় আরও ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে, যা শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো সূত্র জানায়, বুধবার বিকেল থেকেই পাইপলাইনে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে। টানা প্রায় ৬০ ঘণ্টা পরিবহনের পর এই জ্বালানি সংরক্ষণাগারে পৌঁছাবে। ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব জানিয়েছেন, নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল সরবরাহ কার্যক্রম ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ মার্চ একই প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় ৫ হাজার টন ডিজেল পার্বতীপুরে পৌঁছায়। বর্তমান মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিপোটির ধারণক্ষমতা ৫৭ লাখ লিটার হলেও বর্তমানে প্রায় ২২ লাখ ১৫ হাজার লিটার ডিজেল সংরক্ষিত আছে। তবে পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের মজুত সীমিত থাকায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ সাতদিন সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হবে।
দেশের উত্তরাঞ্চলের আটটি কৃষিনির্ভর জেলায় সেচ কার্যক্রম সচল রাখা এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির আওতায় পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি চলছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ভারত থেকে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে।
এই আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, যার একটি অংশ বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকিটা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে জোগান দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানির চাহিদা পূরণে আগামী চার মাসের মধ্যে পাইপলাইনে আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বিপিসি।
পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানার ধারাবাহিকতা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে। তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ টন এবং ২০২৫ সালে রেকর্ড ১ লাখ ২৪ হাজার ২১৬ টন ডিজেল ভারত থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।