
দেশে জ্বালানি তেলের হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, আকস্মিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই জনগণকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সবাই প্রয়োজন মতো তেল পাবেন এবং শঙ্কার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না নিলে সরবরাহ ঠিক থাকবে। তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে কাজ করে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, তবে সরকার এখনও তেলের দাম বাড়ায়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত করার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর এ পরিবর্তন আসে। এর ফলে গতকাল অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে আসে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রতি ব্যারেল ১৩ ডলার হ্রাস পেয়ে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৫.২৮ ডলার, যা ১৩.৫ শতাংশের বেশি পতনের সমান।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগে ইরানে হামলার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এর জেরে যুদ্ধের শুরুতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়।