
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যেও বাড়ছে দেশের রেমিটেন্স। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩ মার্চ—এই আট দিনে দেশে এসেছে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর মাসের ১ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২৮২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের মার্চের ১ থেকে ২৩ তারিখে দেশে এসেছিল ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসেবে এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে সাধারণত বেশি অর্থ পাঠান। ফলে মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি ১০ লাখ ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রণোদনা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের আয় কিছুটা বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রফতানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। সাম্প্রতিক এই প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবাহ আরও জোরদার করতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।