২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ডের বেশি আয়কর পরিশোধ করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। এই পরিমাণ কর দেওয়ার মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ১০০ করদাতার তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে রাজপরিবারের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ ইতিহাসে রাজা তৃতীয় চার্লসই প্রথম সম্রাট, যিনি স্বেচ্ছায় নিজের কর পরিশোধের তথ্য প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়াম একই অর্থবছরে ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড আয়কর ও মূলধনী মুনাফা কর পরিশোধ করেছেন।
এদিকে, দীর্ঘদিনের সংস্কারকাজ শেষ হলেও বাকিংহাম প্যালেসে বসবাস করবেন না রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা। তারা আগের মতোই ক্লারেন্স হাউসেই থাকবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজপরিবারের সরকারি অর্থায়নের প্রধান তহবিল ‘সোভরেন গ্রান্ট’ ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রায় ১০ কোটি পাউন্ডে উন্নীত হবে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজা চার্লস ১ কোটি ১৭ লাখ পাউন্ড এবং প্রিন্স উইলিয়াম ৮৩ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড কর পরিশোধ করেছিলেন। ২০২২ সালে সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে রাজা চার্লস ও প্রিন্স উইলিয়াম মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজস্ব বিভাগে ৫ কোটি পাউন্ডের বেশি কর জমা দিয়েছেন।
রাজা ও প্রিন্স উইলিয়ামের কার্যালয় জানিয়েছে, করসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বাকিংহাম প্যালেসের মতে, এর ফলে রাজপরিবারের আর্থিক বিষয়গুলোতে জনগণের কাছে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
তবে কর বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ প্রকাশিত তথ্যকে যথেষ্ট স্বচ্ছ বলে মনে করছেন না। ট্যাক্স পলিসি অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা ড্যান নেডল বলেন, প্রকাশিত তথ্য খুবই অস্পষ্ট। এতে বোঝা যাচ্ছে না কতটা আয়কর, কতটা মূলধনী মুনাফা কর এবং কর নির্ধারণের আগে কী কী ব্যয় বাদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজা চার্লস প্রতি বছর ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার এস্টেট থেকে ব্যক্তিগত আয় পান। এই অর্থ তার সরকারি ও ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহে ব্যবহৃত হয়।
সূত্র: বিবিসি