
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ইরানে রাতভর সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী বন্দর মাহশাহরে মার্কিন ড্রোন হামলায় আইআরজিসির নৌবাহিনীর ওই সদস্য নিহত হন।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করতে হরমুজ প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানেও আঘাত হানা হয়েছে।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনের কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানায়, ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের’ কোনো জবাব না দিয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। এই নৌপথের বিষয়ে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা ‘কোনো অবস্থাতেই’ মেনে নেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র নির্ধারিত রুট।
ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক এই হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি ‘সম্পূর্ণ অবজ্ঞা’র বহিঃপ্রকাশ।