
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে, যা তেলের দামকে আরও ঊর্ধ্বমুখী করতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা, ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী সমঝোতা কার্যত অকার্যকর বলে মন্তব্যের পর বাজারে উদ্বেগ দ্রুত বাড়তে থাকে। এর জেরে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ থেকে ৮০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বর্তমানে বাজার সংঘাতের আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। যদিও এখনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়া বা তেল অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও দেখা দিতে শুরু করেছে। শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি নতুন করে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)