
ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা চাইলে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, যদিও সেই আলোচনার সফলতা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি শেষ। তিনি দাবি করেন, তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কোনো ফল আসবে না এবং এ ধরনের আলোচনা সময়ের অপচয়।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা চাইলে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তবে তাঁর বিশ্বাস, ইরান কেবল সময়ক্ষেপণের কৌশল গ্রহণ করছে।
ন্যাটো সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প স্পেন নিয়েও কঠোর অবস্থান জানান। তিনি বলেন, ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ন্যাটোতে স্পেনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে বন্দর আব্বাস, সিরিক ও কেশম দ্বীপে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের তেল বিক্রির অনুমতিও বাতিল করে ওয়াশিংটন। এর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার দাবি করেছে ইরান। এতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি-সংলগ্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সামরিক অভিযান সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর মাহশাহর ও বুশেহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বন্দর মাহশাহরে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের কড়া নিন্দা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন ধারাবাহিকভাবে সমঝোতা লঙ্ঘন করছে। তাঁর দাবি, ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতি স্বীকার করানো সম্ভব হবে না।
খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সও দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে প্রকাশ্য আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এ হামলার জবাবে তারা ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।
পরে বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী উভয় দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার দাবি প্রমাণ করে, তেহরান এখনো আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে প্রস্তুত নয়।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর