
হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের সুরক্ষায় থাকা জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সোমবার (৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, হরমুজ প্রণালিতে চলমান পরিস্থিতিতে ইরান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ছোট নৌকা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে এসব হামলা সফল হয়নি।
তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী প্রণালিতে একটি নিরাপদ নৌপথ তৈরি করেছে, যেখানে মাইনমুক্ত করিডর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে। পাশাপাশি জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিতে যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারসহ একটি প্রতিরক্ষামূলক বলয় তৈরি করা হয়েছে।
অ্যাডমিরাল কুপার আরও জানান, সোমবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানই প্রথম আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয় বলে মার্কিন বাহিনীর পর্যবেক্ষণ। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং প্রতিটি হুমকির জবাব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলে একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনায় অগ্নিকাণ্ড ও কয়েকজনের আহত হওয়ার খবরও উঠে এসেছে। তবে এই ঘটনাকে হরমুজ প্রণালির সামরিক নিরাপত্তা অভিযানের অংশ নয় বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন পক্ষ।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়াকে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিশনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজে হামলার অভিযোগও তোলেন, তবে এর বিস্তারিত তথ্য দেননি।
সূত্র অনুযায়ী, ফুজাইরাহ অঞ্চলের ঘটনাগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঘটেছে এবং বিষয়টি পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।