
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার আয়োজন করা হয়। জানাজার পর তাকে টাঙ্গাইল শহরের সন্তোষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দাফনের সময় তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, আহমেদ আযম খান, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবীব মাসুদ, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, তার ছেলে রাশেদ হাসান সহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ।
মাহমুদুল হাসান বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার গুলশানে নিজের বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জীবনবৃত্তান্তে জানা যায়, ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে ১৯৫৬ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৯ সালের ১৩ জুন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগদান করেন। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে কাশ্মীরের আখনুর সেক্টরে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে মেজর জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টি থেকে ১৯৮৮ সালে। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে জাতীয় পার্টির এমপি আবুল কাশেমের নির্বাচনের বাতিল হওয়ার পর উপনির্বাচনে পুনরায় সংসদে পৌঁছান। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করেননি এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছানোয়ার হোসেনের কাছে পরাজিত হন।
অতিরিক্তভাবে, তিনি ১৯৮৯-১৯৯০ সালে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮৯ সালে মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৯৩ সালে তার নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।