
ভোলার তজুমদ্দিনে কীর্তন থেকে বাড়ির ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার নারীর পরিবার ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২/১জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ৩ আসামীকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আড়ালিয়া গ্রামে হিন্দু ধর্মীয় সাধক অনিল সাধুর তিরোধান উৎসব (কীর্তন) থেকে বাড়ির ফেরার পথে একই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দাসপাড়া গ্রামে দলবদ্ধ চক্রের দ্বারা রাতভর গণধর্ষণের শিকার হন স্বামী পরিত্যক্তা এক সন্তানের জননী হিন্দু নারী। ধর্ষণের ফলে ওই নারী অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ফেলে রেখে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।
পরে ২৩ ফেব্রুয়ারী ভোরে ফজরের নামায পড়তে আসা মুসল্লিরা ধর্ষিতাকে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়ে থাকতে দেখে ডাকচিৎকার দিলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসা ও পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি ভোলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনায় ধর্ষিতার পিতা সুশেন দাস বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২/১জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর৯ (৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৩। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ আসামীকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোঃ রাকিব (৩০), মোঃ জুয়েল (৩৫) ও আল আমীন ওরফে সম্রাট (২০)। আটককৃতদের জেলা হাজতে প্রেরণ করেন পুলিশ।
এঘটনায় মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তজুমদ্দিন থানার হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ভোলা পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছারের দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল সার্বিক তত্ত্বাবধানে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে এজাহার নামীয় ৩ আসামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।