
মায়ের চোখের সামনেই বাঁশের সাঁকো ভেঙে পানিতে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে সাত বছরের মাদরাসাছাত্র আরাফ। মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাঁকো পার হওয়ার সময় আকস্মিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালালেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কয়রাখালী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফ ওই গ্রামের হৃদয় মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে মাদরাসা শেষে বাড়ির পথে রওনা হয় আরাফ। গ্রামের একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হওয়ার সময় তার মা কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।
একপর্যায়ে মা বাড়ির দিকে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর সাঁকোর একটি বাঁশ ভেঙে যায়। এতে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যায় আরাফ। পানিতে পড়ার শব্দ শুনে তার মা দ্রুত ঘটনাস্থলে ফিরে এসে ছেলেকে পানিতে ডুবে যেতে দেখেন।
মায়ের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পানিতে তল্লাশি চালিয়ে আরাফকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে এসেছে শোক।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। শিশুটি সাঁকো পার হওয়ার সময় তার মা কাছেই ছিলেন। সাঁকোর বাঁশ ভেঙে শিশুটি পানিতে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এখনো শিশু, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব সাঁকোতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
আরাফের মৃত্যুর পর কয়রাখালী গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি দ্রুত সংস্কার এবং স্থায়ীভাবে পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।