
ঋতু বদলের সময় সর্দি-কাশি ও বিভিন্ন ধরনের ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এ সময় সুস্থ থাকতে অনেকে প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক পানীয়ের দিকে ঝুঁকছেন। তবে মনে রাখা জরুরি, কোনো আয়ুর্বেদিক পানীয়ই ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু প্রতিরোধ কিংবা নিরাময় করতে পারে না। তবে আমলকী, তুলসি, আদা ও হলুদের মতো ঐতিহ্যবাহী উপাদান পরিমিতভাবে খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি পেতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম, নিয়মিত পানি পান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি ফ্লুর মৌসুমে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন কিছু পানীয়। যেমন—
আমলকীর রস
ভিটামিন সি ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগের ভালো উৎস হিসেবে আমলকী দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় রয়েছে। সুষম খাবারের অংশ হিসেবে প্রতিদিন অল্প পরিমাণ আমলকীর রস পান করা যেতে পারে।
তুলসীর রস
ঋতু পরিবর্তন ও শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় ঐতিহ্যগতভাবে তুলসি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অল্প পরিমাণ তাজা তুলসীর রস পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
আদার রস
সর্দি ও শ্বাসযন্ত্রের নানা উপসর্গে আদার ব্যবহার দীর্ঘদিনের। পাতলা করে কুচি করা আদা অথবা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে এটি খাওয়া যেতে পারে।
হলুদের রস
হলুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কারকিউমিন। এর প্রদাহ-বিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য কারকিউমিন ব্যাপকভাবে পরিচিত। অল্প পরিমাণ তাজা হলুদের রস পানিতে মিশিয়েও পান করা যেতে পারে।
গিলয়ের রস
গিলয় বা গুলঞ্চকে ঐতিহ্যগতভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উপকারী বলে মনে করা হয়। এর পাতার রস বদহজম, গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমাতে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পাশাপাশি এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে লিভার ও কিডনি পরিষ্কার রাখতেও সহায়তা করে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।