
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নির্ধারিত সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে তা দেশের জন্য অর্থনৈতিক বোঝায় পরিণত হয়। তিনি জানান, ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকাকে বাইপাস করে হেমায়েতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করবে, যা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট প্রায় অর্ধেক কমে আসবে এবং যান চলাচলের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
মঙ্গলবার (৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে। তবে দীর্ঘসূত্রিতা ও সময়মতো কাজ শেষ না করার কারণে অনেক প্রকল্পে অর্থ অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পে বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে। “সময়মতো ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ব্যয় বাড়ে এবং প্রকল্প বোঝা হয়ে দাঁড়ায়,” বলেন তিনি।
বড় বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে রেখে গড়িমসি করছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। এ ক্ষেত্রে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ও সুপরিকল্পনা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না নানা সীমাবদ্ধতার কারণে। ফলে সম্ভাব্য লাভ অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকছে।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প নেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোই অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে জনগণ সরাসরি সুফল পায় এবং অর্থের অপচয় না হয়।
অন্যদিকে, রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ রাজিব আহসান বলেন, যানজটের কারণে জ্বালানি অপচয় ও উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবস্থা চালু হলে সময় সাশ্রয় হবে এবং পণ্য পরিবহনসহ আন্তঃনগর যোগাযোগে গতি আসবে।
তিনি জানান, প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে এবং বাস্তবসম্মত টোল কাঠামো নিশ্চিত করা গেলে এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতার অন্যতম কারণ হিসেবে জমি অধিগ্রহণকে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে হবে। “বড় প্রকল্প মানেই বড় দুর্নীতি—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলো যেন বিতর্কমুক্তভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে প্রধান লক্ষ্য।