
দেশজুড়ে এপ্রিল মাসে সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের চাপের ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাসে অন্তত ৪০টি ঘটনায় ৭৫ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এইচআরএসএস জানায়, শুধু সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেই নয়, সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতিও ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনটি ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যম এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৭ জন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং ১০ জন হুমকির মুখে পড়েছেন। এছাড়া তিনজনকে আটক করা হয় এবং চারটি পৃথক মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
এপ্রিলে দেশে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনাও অব্যাহত ছিল। এসব ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্রও এ মাসে ছিল উল্লেখযোগ্য। ৯৮টি ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং ৫৩৩ জন আহত হয়েছেন। মার্চ মাসের তুলনায় কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতিকে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে এইচআরএসএস।
দলীয় সহিংসতাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ৪০টি ঘটনায় চারজন নিহত ও ২৪৭ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে ১১৩ জন এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে ৫৮ জন আহত হয়েছেন। দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে এসব ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পৃথক রাজনৈতিক হামলায় ১৩টি ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৩৭ জন। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এ মাসে সাতটি জনসভা ও সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৪৯ জন আহত এবং দুজন আটক হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে ২৩ জনকে আটক এবং নয়টি মামলা করা হয়েছে।
নারী ও শিশুদের পরিস্থিতি নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এপ্রিল মাসে ২৯৪ জন নারী ও কিশোরী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৮টি ধর্ষণ এবং ৭৯টি যৌন হয়রানির ঘটনা রয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় ৬৪ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শ্রম খাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ৮০টি ঘটনায় ১৩ জন শ্রমিক নিহত এবং ১১৬ জন আহত হয়েছেন। অনিরাপদ কর্মপরিবেশে দুর্ঘটনায় আরও ৬৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটের দিকে যাচ্ছে। তার মতে, সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হয়রানি, গণপিটুনি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।