
আপনারা আমাকে সাতবার সংসদ সদস্য বানিয়েছেন এভাবেই নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে জনসংযোগ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মেজর হাফিজ বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষ বারবার তাঁকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার মতো অযোগ্য ব্যক্তিকে সাতবার সংসদে পাঠিয়েছেন আপনারা। আপনপাদের অকুণ্ঠ সমর্থনে আমি এমপি হয়েছে, মন্ত্রী হয়েছি, জাতীয় সংসদের স্পিকার হয়েছি সর্বশেষ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিও হয়েছি। আল্লাহ আমাকে আপনাদের সমর্থনে অনেক সম্মান দিয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মেজর হাফিজের রাজনৈতিক জীবনে ভোলা-৩ আসনটি গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন নির্বাচনে তিনি এ আসন থেকে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে, ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন। সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তিনি আরো বলেন, চরের খাসজমি গরীব অসহায় মানুষ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছে কিন্তু সেখানে কিছু নেতা পাতিনেতা সেখানে গরীব মানুষের কাছে টাকা পয়সা আদায় করে কিছু ইনকাম করছে এটি কোনভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মেজর হাফিজ বলেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিষ্টের ছত্রছায়ায় দেশে অনেক অপকর্ম হয়েছে। আয়না ঘরের নামে রাজনৈতিক পরিবারের উপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। আয়না ঘরে অত্যাচারের শিকার করেজন ব্যক্তি বর্তমানে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের কাছে আয়না ঘরের বর্ণনা শুনলে বুঝা যায় কি নির্মম নির্যাতন করা হয়ে আটক ব্যক্তিদের উপর। পরে ৫আগষ্টের তীব্র আন্দোলনে স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়েছে, প্রধান বিচারপতি পালিয়েছে এমন কি বাইতুল মোকাররমের খতিব পর্যন্ত পালিয়েছে। এখন আবার হুমকি দিচ্ছে ডিসেম্বরে দেশে আসার। দেখা যাক দেশের মানুষ এই স্বৈরাচারকে কিভাবে নেয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বলছেন, মেজর হাফিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অন্যতম বড় শক্তি তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের সমর্থন। অন্যদিকে তাঁর বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১২ মার্চ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন।