
কুমিল্লার বাঙ্গরা এলাকায় দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর বাড়ি ফিরেছিলেন ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন। কিন্তু বাড়িতে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের সামনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের পেন্নাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন (৪৫) শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি পেন্নাই গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বিরোধ আরও তীব্র হলে একপর্যায়ে তাকে গ্রাম ছাড়তে হয়।
শনিবার গভীর রাতে গোপনে নিজ বাড়িতে ফেরেন আনোয়ার। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর রাত ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়ি ঘেরাও করে। পরে পরিবারের সদস্যদের সামনেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহতের জামাতা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার শ্বশুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের বলয়ের রাজনীতি করতেন। হামলাকারীরা মূলত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সরকারের অনুসারী। রাতে পেন্নাই গ্রামের কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল ঘরে ঢুকে স্ত্রী-সন্তানদের সামনেই কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা বর্তমানে স্থানীয় কয়েকজন রাজনীতিবিদের শেল্টারে রয়েছেন। সামনে ইউপি নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।