
পটুয়াখালীতে আট বছরের শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলার মহিপুর সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নজীবপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কোমরপুর গ্রামের বেড়িবাঁধের বটতলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে অভিযুক্ত মো: জয়নুল আবেদিন ওরফে সোনা মিয়া ফরাজী(৬৫) তার বাড়ির সামনে কোমরপুর হাকিমিয়া নূরানী তা' লীমুল কুরয়ান মাদ্রাসার মাঠে অবস্থান করছিলো।শিশু শিক্ষার্থী সাবরিনা পাশে তার নানা বাড়িতে দুপুরের খাবার খেয়ে সহপাঠীকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসা থেকে স্কুল ব্যাগ আনতে যায়, তখন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছুটি হওয়ায় সবাই চলে যায়। ঐ সময় সোনা মিয়া ফরাজী ছাড়া অন্য কেউ ঘটনাস্থলে ছিলো না। সাবরিনা মাদ্রাসার দরজার সামনে যেতেই সোনা মিয়া ফরাজী শিশু সাবরিনার শরীরে হাত দেয় এবং পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। এমতাবস্থায় শিশু সাবরিনার সহপাঠী মাহফুজা ছেড়ে দেওয়ার জন্য আকুতি করে এবং এক পর্যায়ে সাবরিনা চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। সাবরিনার চিৎকারের পর নরপশু সোনা মিয়া ফরাজী শিশুটিকে ছেড়ে দেয়।
শিশু সাবরিনা ও তার সহপাঠী দৌড়ে বাড়িতে এসে তার মা ও খালার নিকট সোনা মিয়া ফরাজীর পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনা বলে দেয়। যদিও সকাল থেকে সাবরিনার মা কাজল বাড়িতে ছিলেন না এবং তিনি ঘটনার অল্প কিছু সময়ের মধ্যে বাড়িতে এসে বোরকা খুলতে ছিলেন সেই সময় তার ৮ বছরের মেয়ে সাবরিনা মাদ্রাসা থেকে দৌড়ে এসে কান্না জড়িত কন্ঠে শরীর ব্যথাসহ নির্যাতনের বর্নণা দেন।
শিশু সাবরিনার মা ও খালাসহ কয়েকজন সোনা মিয়া ফরাজীর বাড়িতে গিয়ে সোনা মিয়ার স্ত্রীর নিকট ঘটনা খুলে বলেন এবং সোনা মিয়ার স্ত্রী মোসা: কাজল কে বলেন বুড়া বেডাকে(সোনা মিয়া) ঝাড়ু দিয়ে বারি মারেন যাতে জীবনের তরে শিক্ষা হয়। পরে কাজলসহ অন্যান্যরা তাদের বাড়িতে এসে আত্মীয় স্বজন ও গ্রামবাসীদের ঘটনার বর্ননা দেন। এ সময় সোনা মিয়ার স্ত্রী নির্যাতিত শিশুর বাড়িতে এসে তার মা কাজলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং এও বলেন আমার মেয়ের বিবাহ হয়েছে এ ঘটনা জামাই জানতে পারলে মেয়েকে ছেড়ে দিবে। সোনা মিয়ার স্ত্রী এভাবে অনুনয় বিনয় করে বার বার অনুশোচনা করতে থাকেন এবং মাফ করে দিতে অনুরোধ করেন। সাংবাদিকদের দেখে সোনা মিয়ার স্ত্রী দ্রুত কাজলের বাড়ি ত্যাগ করেন।
অভিযুক্ত সোনা মিয়া ফরাজী ইসলামী শাসনতন্ত্র বাংলাদেশ (চরমনাই) মহিপুর সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় মহিপুর সদর ইউনিয়নের সভাপতি আফজাল মুসুল্লী ও সাধারণ সম্পাদক আবু সিকদার বিকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসী ও নির্যাতিত পরিবারের সাথে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত জানেন।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সোনা মিয়া ফরাজী ও নির্যাতিত শিশু সাবরিনা এবং তার পরিবারকে থানায় নিয়ে যান। মহিপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায় অভিযুক্ত জয়নুল আবেদিন ওরফে সোনা মিয়া ফরাজীর(৬৫) নামে নির্যাতিত শিশুর মা মোসা:কাজল বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ৯ (১)ধারায় ১ লা মার্চ মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ অভিযুক্ত সোনা মিয়া ফরাজী কে আদালতে সোপর্দ করেন