
রমজান মাস শুরুর আগেই খেজুরের দাম গত এক মাসে তুঙ্গে উঠেছে। সরকার যদিও শুল্ক হার কমিয়ে বাজারে দাম কমানোর চেষ্টা করেছে, তবুও প্রতিকেজিতে খেজুর কেজিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় সাধারণ মানের খেজুরের দামও কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজধানীর বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বহুল বিক্রিত জাহিদী খেজুর এখন প্রতিকেজি ৩২০–৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ২৫০ টাকা ছিল। ইরানি মরিয়ম খেজুরের দাম বেড়ে ১২০০–১৪০০ টাকা, কালমি মরিয়মের দাম ৯০০ টাকা এবং সুক্কারি খেজুর ৮০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এছাড়া আজুয়া, বরই, দাবাস, মাবরুম, মেডজুল ও আম্বারার মতো অন্যান্য প্রজাতির খেজুরের দামও কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মুন্না এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মহসিন মোল্লা বলেন, “এক মাস আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম ১০০ টাকার ওপরে বেড়েছে। সরকার শুল্ক কমালেও সিন্ডিকেট ভাঙা যায়নি। আমরা কম দাম না কিনলে কম দামে বিক্রি করতে পারবো কীভাবে?”
পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে দাম আরও বেশি। ঢাকার বাদামতলী বাজারে জাহিদী খেজুরের ৫ কেজি প্যাকেট ১০০০–১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কেজি দরে ২০০–২৪০ টাকা। ইরানি মরিয়ম খেজুরের ৫ কেজি প্যাকেট ৫০০০–৬২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ কেজিতে ১০০০–১২৪০ টাকায়।
বাদামতলী পাইকারী বাজারের এমদাদুল করিম বলেন, “গত এক মাসে খেজুরের দাম সামান্য বেড়েছে। তবে, গত বছরের তুলনায় এখনো কম। বিদেশে দাম বেশি থাকার কারণে আমদানিকারকরা বেশি দামে খেজুর বিক্রি করতে বাধ্য। তবে এবার সাধারণ মানুষ তুলনামূলকভাবে কম দামে খেজুর কিনতে পারবে।”
রমজানের আগে খেজুরের এমন উল্লম্ফন দাম সাধারণ ক্রেতার জন্য চ্যালেঞ্জ হলেও, পাইকারী ও আমদানিকারকরা আশা করছেন, বাজার সাময়িক সামঞ্জস্য বজায় রাখার চেষ্টা চলবে।