
সংসারের টানাপোড়েন ঘুচাতে আর মায়ের ধানচাতালের হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাতক্ষীরার কলারোয়ার তরুণ শুভ। কিন্তু ভাগ্য বদলের সেই স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায়। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে দীর্ঘ ৩ মাস ২৫ দিন পর তার মরদেহ নিজ গ্রাম কলারোয়া উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের শ্রীপতিপুরে পৌঁছায়। এসময় স্বজনদের আজাহারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রিয় সন্তানের কফিনবন্দী লাশ দেখে শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা ও স্বজনরা।
নিহত শুভর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসরায়েলের বর্বর ড্রোন হামলায় প্রাণ হারানোর পর থেকেই একটি লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল শোকার্ত পরিবারটি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শত মানুষের ভিড়ে একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের বাতাস।
এদিকে শুভর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিবারের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে মরদেহ বহনের খরচ ও বিশেষ সহায়তা হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মানুযায়ী পরবর্তীতে অন্যান্য অনুদান ও জীবন বীমার অর্থও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মায়ের কষ্ট মুছে দিতে প্রবাসে যাওয়া শুভ আজ ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে। বেঁচে থাকার হাজারো স্বপ্ন কফিনের চার দেয়ালে বন্দি হয়ে বাড়ি ফেরার পর এখন শুধু শূন্যতা আর দীর্ঘশ্বাসের হাহাকার চারদিকে।