
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের উত্তর চরপাড়া গ্রামে মনির মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে নারী হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগের প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্র করা হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলের খবর পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত মনির।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মনির মিয়া স্থানীয় বাসিন্দা শামীম মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গ্রামের নারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। রাতের আঁধারে ঘরের টিনে ছিদ্র করে গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণের পর সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন। বিশেষ করে যেসব পরিবারের পুরুষ সদস্য প্রবাসে থাকেন, তাদের পরিবারের নারীদেরই বেশি টার্গেট করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে তাকে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আপত্তিকর ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শুধু নারী হয়রানিই নয়, মনিরের বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্রামের বাইরে থেকে আসা অতিথিদের পথরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, গরু ও অটোরিকশা চুরিসহ একাধিক ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, মনির নারী হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের পাশাপাশি সড়কের পাশে থাকা সরকারি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও চুরি করে নিয়ে গেছেন।
গ্রামবাসীর দাবি, সম্প্রতি এসব অভিযোগ নিয়ে মনিরের বাবা শামীম মিয়ার কাছে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের বাবাকেই মারধর করেন মনির। এতে তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর এলাকায় আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অবশেষে গত ২০ জুলাই সকালে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্র করা হয়। পরে শতাধিক মানুষ প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে মনিরের বাড়ির দিকে এগোলে খবর পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পালানোর সময় এলাকাবাসীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েও যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, যে ব্যক্তি নিজের বাবার ওপর হামলা করতে পারেন, তার কাছ থেকে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা চরম উদ্বিগ্ন। তাই দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
অভিযুক্তের বাবা শামীম মিয়া বলেন, ‘মনির নেশাগ্রস্ত হয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। আমি বাধা দিতে গেলে সে ছুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করে। এ ঘটনার আগেও আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি।’
ঘটনার পর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে অভিযুক্তের বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, ‘গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’