
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলাম (৩০) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি কারখানাটির সামনে রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর নজরুলসহ চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুলের মৃত্যু হয়।
আহত তিনজন হলেন কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তাঁর বাবা মুখলেস মিয়া (৪৫) এবং গ্যাস পরিবহনের গাড়িচালক নুর ইসলাম (৩০)। নুর ইসলাম বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন।
নিহত নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাঁদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে তাঁরা আশুলিয়ার শিমুলতলায় থাকেন। তাঁর বাবা কারখানাটির সামনে পেঁয়াজ-রসুনসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বিক্রি করতেন।
সামিউল বলেন, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে দেখতে পান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
আহত মুখলেস মিয়া জানান, তিনি ও তাঁর ছেলে সুজন আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ওই পোশাক কারখানার সামনের রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করেন। সন্ধ্যায় কারখানার ভেতর থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এতে লোহার বিভিন্ন সামগ্রী, ইটপাটকেল ও কাচ ছিটকে আশপাশে থাকা মানুষের গায়ে লাগে। এতে সুজনের মাথায় এবং মুখলেসের হাতে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
দগ্ধ নুর ইসলামের ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাটে। তবে তিনি ভোলায় থাকতেন এবং গ্যাস পরিবহনের গাড়ি চালাতেন। বিস্ফোরণে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, আশুলিয়ার বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট চারজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। আহত দুজন ক্যাজুয়ালটি বিভাগে এবং একজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।