
দেশের স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে শিগগিরই পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এ ছাড়া ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৭টি এক্সিলারেটর যন্ত্র আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে মেডিকেল ফিজিক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে এ খাতকে নতুন রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গত সাত মাসে স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গ্রাম পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ২৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে শতভাগ চিকিৎসক উপস্থিত থাকছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ, ৪১ হাজার ৩৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো হবে। স্তন ক্যানসার ও যক্ষ্মা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই সারা দেশে আড়াই হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের অপচয় নিয়ে সমালোচনা
স্বাস্থ্য খাতে অতীতের অনিয়ম ও অর্থের অপব্যবহারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। বাজেট বরাদ্দ হলেও অর্থ লুটপাট হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অকেজো হয়ে পড়ে থাকা দুটি এক্সিলারেটর যন্ত্রের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি বরিশালে এবং অন্যটি গোপালগঞ্জে পড়ে আছে। যন্ত্র দুটি কিনতে ১৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফলে সেগুলো এখন অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এভাবে পড়ে থাকলে একসময় যন্ত্রগুলো ভাঙারির কাছে বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।