
ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রেশন প্রশাসনে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, দলিল সম্পাদন ও অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা রেজিস্ট্রারসহ কয়েকজন সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান, গুলশানের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদের বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনে জড়িত। গত ৩ মে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০ দশমিক ৬৬ কাঠা জমির একটি দলিল সম্পাদনের সময় জমির প্রকৃত শ্রেণি ‘বসতভিটা’ হলেও সেটিকে ‘নাল জমি’ হিসেবে দেখানোর অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এতে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি এবং দলিল প্রক্রিয়ায় চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাতা পক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দলিল সম্পাদনে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ঢাকা জেলার অন্তত ২১টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও জেলা রেজিস্ট্রার কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। বরং কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের রক্ষার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অফিসে নিজ উদ্যোগে স্ক্যানার বসিয়ে দলিল স্ক্যান করার মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, এটি প্রচলিত বিধির বাইরে একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে দলিল সম্পাদনে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা দলিল দ্রুত সম্পাদনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগপত্রে জেলা রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অডিট ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নামে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও আনা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ চলতে থাকায় রেজিস্ট্রেশন প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।