
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাত্র ১০ টাকার চাঁদাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে মুমিনুল মিয়া নামে এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স মহাসড়কে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে অন্তত আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় এ অবরোধের ঘটনা ঘটে। এ সময় মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
নিহত মুমিনুল মিয়া উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার পরিবার। স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় এক যুবক চাঁদা দাবি করে তাকে মারধর করলে গুরুতর আহত হন মুমিনুল। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শাহিন মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিয়মিত অটোরিকশাচালকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতেন। রোববার বিকেলে মুমিনুল মিয়া সেখানে গেলে তার কাছ থেকে ১০ টাকা নেওয়ার পর আবারও টাকা দাবি করা হয়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বুধবার সকালে মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা। তারা মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং হত্যার বিচার দাবি করেন।
নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, ‘১০ টাকার জন্য আমার স্বামীকে মেরে ফেলল। এখন দুই ছেলেকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব জানি না।’ তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় আগেই সোনারগাঁ থানায় চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন সোমবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন, মারধরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। অভিযুক্ত শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।