
রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের আইন ও জাতীয় নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার স্টেপানোভ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রায় সমস্ত বিমানঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে এমন ঘাঁটিও রয়েছে যেখানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং সামরিক পরিবহন বিমান মোতায়েন ছিল। এছাড়াও দেশের সমস্ত সামুদ্রিক ও বিমান সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে গেছে।
বার্তা সংস্থা তাসের খবরে শনিবার (৩ জানুয়ারি) স্টেপানোভ বলেন, “দেশের প্রায় সমস্ত সামুদ্রিক এবং বিমান সরবরাহ সুবিধা ধ্বংস হয়ে গেছে। সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে পূর্বে মোতায়েন করা এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমানের পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। তবে আমার কাছে তথ্য আছে, প্রায় সমস্ত বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে—এর মধ্যে এফ-১৬ এবং সামরিক পরিবহন বিমান যেখানে অবস্থান করছিলো সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত।”
স্টেপানোভ আরও বলেন, “ভেনেজুয়েলার বিমান ও সমুদ্র সরবরাহ বর্তমানে কার্যত অচল—সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে।”
তিনি দাবি করেন, মার্কিন বিমান বাহিনী প্রথমে ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে এবং প্যারাট্রুপার ও হেলিকপ্টার দলগুলো রাজধানী কারাকাসে প্রবেশ করে।
স্টেপানোভ বলেন, “বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই অচল হয়ে যাওয়ায় এবং দেশের আকাশসীমা মার্কিন বিমান বাহিনী ও বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপের অনবোর্ড সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পুরো দেশজুড়ে কার্যত রিমোট কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
তিনি আরও সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইতোমধ্যেই তার মূল লক্ষ্য অর্জন করেছে। তবে ভেনেজুয়েলার সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য আরও অভিযান চালানো অসম্ভব নয়।
এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ চালিয়েছে। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।”