
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে খাবার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কাঠের টুকরা দিয়ে পিটিয়ে এক বাবুর্চিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় বাবুর্চিকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর নারী সহকারী। এ ঘটনায় ৩৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান কাদেরীয়া খানকা শরীফের রান্নাঘরে এ ঘটনা ঘটে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ফজের আলী সরদার (৭০) রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর সহকারী সোনা বান বিবি (৬৫)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহির চর দৌলতিয়ার সিদ্দিক কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানায়, দুপুরে ওই যুবক খানকা শরীফের রান্নাঘরে ঢুকে বাবুর্চি ফজের আলীর কাছে খাবার চান। কিন্তু খাবার না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের চেলা দিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করেন। এ সময় বাবুর্চিকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সোনা বান বিবিও হামলার শিকার হন।
তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ওই যুবককে আটক করেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ফজের আলী ও সোনা বান বিবিকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, সোনা বান বিবির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আটক যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন হতে পারেন। গত কয়েক দিন ধরে তাঁকে গোয়ালন্দ বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এ সময় বিভিন্ন মানুষের কাছে খাবার চাইতেও দেখা যায় তাঁকে। খাবার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েই তিনি বাবুর্চিকে কাঠের টুকরা দিয়ে আঘাত করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁর মানসিক অবস্থা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।