
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কারাগারে থাকা স্বামীকে মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর বাড়িতে যাতায়াত এবং পরে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ৪৫ বছর বয়সী ওই নারী ফুলবাড়িয়া থানায় হযরত আলী মণ্ডল (৩৮) নামের যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।
অভিযুক্ত হযরত আলী উপজেলার একটি ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে আসছিলেন।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মারামারির একটি মামলায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নারীর স্বামী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। এরপর তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন হযরত আলী।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন তিনি। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত নেতা।
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, স্বামীকে কারাগার থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলে হযরত আলী প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে আসতেন। ঘটনার দিনও কয়েক দফায় তিনি সেখানে যান। স্বামীকে মুক্ত করার কথা বলে তাঁকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সম্মতি না দেওয়ায় ঘরে ঢুকে তাঁকে জাপটে ধরে বিছানায় ফেলে দেন।
ওই নারী জানান, নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আগেই মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ চালু রেখেছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে যেন তার প্রমাণ থাকে। সেই উদ্দেশ্যেই ভিডিওটি ধারণ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী নারী আরও দাবি করেন, তাঁর স্বামীকে একটি মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করেছেন তিনি। পরে আইনজীবীর সহযোগিতায় গত সোমবার তাঁর স্বামীর জামিন হয়।
অভিযুক্ত হযরত আলীর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন ওই নারী। পাশাপাশি তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত হযরত আলী বর্তমানে পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হযরত আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ। তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর হযরত আলীকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।