
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির আকাশে একাধিক অজ্ঞাত ড্রোন দেখা যাওয়ায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আবাসস্থল হওয়ায় ঘটনাটি প্রশাসনের ভেতরে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওয়াশিংটনের ফোর্ট লেসলি জে. ম্যাকনেয়ার ঘাঁটির আকাশে সম্প্রতি একাধিক রহস্যময় ড্রোন উড়তে দেখা যায়। এই ঘাঁটিতেই অবস্থান করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হ্যাগসেথ। গত ১০ দিনের মধ্যে অন্তত এক রাতে একাধিক ড্রোন শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।
ঘটনার পরপরই হোয়াইট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ড্রোনগুলোর উৎস বা উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে ঘাঁটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় এসেছে, যদিও আপাতত তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, “নিরাপত্তার কারণে সেক্রেটারির গতিবিধি নিয়ে দপ্তর কোনও মন্তব্য করতে পারে না। এই ধরনের খবর ছাপানোও চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।”
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জেরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা তুঙ্গে। সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে নজরদারি ও প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
এদিকে, বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে নিরাপত্তা বাড়িয়ে ‘চার্লি’ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য হামলার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকার ইঙ্গিত দেয়।
ফ্লোরিডার ম্যাকডিল এয়ার ফোর্স বেসসহ একাধিক স্থানে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে সন্দেহজনক প্যাকেজ ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই, এবং অন্য একটি ঘটনায় দীর্ঘ সময় ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এ ধরনের অজ্ঞাত ড্রোনের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ফোর্ট ম্যাকনেয়ার ঘাঁটিটি হোয়াইট হাউস ও ক্যাপিটল হিলের খুব কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও তুলনামূলকভাবে কম সুরক্ষিত—এই বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধ বাস্তবতায় ড্রোন এখন কেবল নজরদারি নয়, বরং বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকির প্রতীক হয়ে উঠছে।