
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির নেতৃত্বকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কে এখন শাসন করছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৩ জানুয়ারি) মাদুরো আটককে “অভূতপূর্ব ও শক্তিশালী” পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মাদুরো আটক হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শপথ নিয়েছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে অনেকের ধারণা সৃষ্টি হয়, রদ্রিগেজই হয়তো অন্তর্বর্তীভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন।
ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট অনুপস্থিত থাকলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। সর্বোচ্চ আদালতও শনিবার গভীর রাতে রদ্রিগেজকে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে ডেলসি রদ্রিগেজ ভিন্ন ঘোষণা দেন। তার পাশে ছিলেন জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। রদ্রিগেজ বলেন, “নিকোলাস মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে বহাল আছেন।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ নেতাদের এই যৌথ উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মহল এখনও ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প শনিবারই বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা বাতিল করেন। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে মাচাদোর তেমন জনসমর্থন নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে মাচাদোকে প্রার্থী হতে নিষিদ্ধ করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, তার বিকল্প প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হলেও মাদুরোর সরকারই নির্বাচনে নিজেদের বিজয় দাবি করেছে।