
তীব্র বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পরিবেশে শেষ হয়েছে। এই শান্তি আলোচনার প্রধান দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার জানিয়েছে, বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্বে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ওপর ভিত্তি করে আলোচনাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে ওয়াশিংটন ও তেহরান কারিগরি পর্যায়ের সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এই সংলাপ সচল রাখতে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা বা কাঠামো গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চলমান এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ওপর রাজনৈতিক তদারকি বজায় রাখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। আলোচনার দায়িত্বে থাকা প্রধান কূটনীতিকরা নিয়মিত এই কমিটিকে অগ্রগতির সার্বিক আপডেট জানাবেন। এর পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক বিরোধ নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে পৃথক পৃথক কর্মীদল (ওয়ার্কিং গ্রুপ) গঠন করে কাজ করা হবে।
সবচেয়ে বড় খবর হলো, এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে পারস্পরিক সম্মতি জ্ঞাপন করেছে।
এর বাইরে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক সংঘাত এড়াতে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই পক্ষ একটি সরাসরি ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চ্যানেল (হটলাইন) চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠকের পর লেবানন সংকটের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতির পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার পোস্টে লেখেন, ‘পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতার ফলে লেবানন যুদ্ধ শেষ করার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।’
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, এই সফল আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানির ওপর থাকা মার্কিন বিধিনিষেধ অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া এবং বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের কিছু জব্দকৃত আর্থিক সম্পদও অবমুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানের জন্য বড় ধরনের পুনর্গঠন ও উন্নয়নমূলক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও চালু করা হয়েছে।