
যশোর জেলায় মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের এক ভয়ঙ্কর ও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিগত ছয় বছরে জেলাটিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নিজের জীবনাবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছেন, যার মধ্যে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক মানুষের। যশোরে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই শিউরে ওঠার মতো পরিসংখ্যানটি জনসমক্ষে এনেছেন।
যশোরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে টানা ৬ বছর ধরে পরিচালিত একটি বিশেষ প্রকল্পের বিদায়লগ্নে আয়োজিত সমাপনী সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
৬ বছরে ১৪,৫১৬ বার আত্মহননের চেষ্টা
বুধবার (১৫ জুলাই) যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষ ‘সনেট’-এ এডিডি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে এই বিদায়ী সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আসন অলংকৃত করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।
অনুষ্ঠানে যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ও কো-অর্ডিনেটর ডা. মৌসুমী বিনতে মানিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন:
“সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত can বছরে যশোরে ১৪ হাজার ৫১৬ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আত্মহত্যা প্রবণতার এ হার উদ্বেগজনক। এজন্য মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে আমাদের সবারই আন্তরিক হতে হবে।”
সফল ৬ বছরের কার্যক্রমের সমাপ্তি
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত দাতা সংস্থা ‘এডিডি ইন্টারন্যাশনাল’ ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে যশোর অঞ্চলে কমিউনিটি-ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রকল্প পরিচালনা করে আসছিল। দীর্ঘ পথচলা শেষে আগামী ৩০ জুলাই এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। সমাপনী এই আয়োজনে প্রকল্পটির বিগত ৬ বছরের সাফল্য, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও আগামী দিনে করণীয় সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়।
সভায় এডিডি ইন্টারন্যাশনালের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল হারুন তাঁর সংস্থার সার্বিক অর্জন ও কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনজিও সমন্বয়কারী শাহজাহান নান্নু। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন।
আলোচক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা জানান, এই দীর্ঘ সময়ে যশোরের সাধারণ মানুষের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি, বিনা মূল্যে বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প পরিচালনা, প্রাথমিক মানসিক চিকিৎসা বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন এবং স্কুলগুলোতে ‘মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম’ চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
উক্ত সভায় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা প্রকল্পের বিপুল অর্জনের প্রশংসা করে বলেন, এডিডি ইন্টারন্যাশনালের এই প্রকল্প শেষ হলেও সরকারি ও বেসরকারি যৌথ অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই অতিপ্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে