
ভিসা জটিলতা, কড়া রাজনৈতিক চাপ আর চরম নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মাঠে নেমেছিল ইরান ফুটবল দল। কিন্তু ম্যাচের পর বিশ্রামের ন্যূনতম সুযোগটুকুও মেলেনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ফুটবলারদের।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি দলকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এমন আকস্মিক আদেশে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই এবং অধিনায়ক মেহেদি তারেমি।
বাংলাদেশ সময় আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ইরান। রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ম্যাচের একদিন আগে মেক্সিকো থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছানোর অনুমতি পায় দলটি। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে ইরান।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে সোমবার স্থানীয় রাতটা ক্যালিফোর্নিয়াতেই কাটানোর কথা ছিল ইরানি ফুটবলারদের। কিন্তু ম্যাচ শেষ হতেই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে ম্যাচের শারীরিক ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই রাতেই মেক্সিকোর উদ্দেশে বিমান ধরতে বাধ্য হয় পুরো দল।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের এমন অপেশাদার আচরণে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ইরানের কোচ আমির ঘালেনোই বলেন, “তারা আমাদের সামান্য রিকভারির বা বিশ্রামের সময়টুকুও দিল না। ম্যাচ শেষ হতে না হতেই বলা হলো, ‘তোমাদের এখনই চলে যেতে হবে।’ ফুটবলারদের ইনজুরি এড়াতে ম্যাচের পর বিশ্রামের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের জোর করে বিমানে তুলে ১৪০ মাইল দূরের মেক্সিকোর টিজুয়ানা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আমরা সত্যিই এই আচরণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।”
পেছনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ইঙ্গিত করে কোচ আরও বলেন, “সত্যি বলতে, কেন আমাদের এভাবে তাড়াহুড়ো করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তা আমরা জানি না। এটি অত্যন্ত অদ্ভুত ও নজিরবিহীন। মনে হচ্ছে আমাদের পুরো পরিকল্পনা আড়াল থেকে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে। আমার স্পষ্ট মনে হয়, এবারের বিশ্বকাপে আমাদের দলটাই সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।”
দলের অধিনায়ক ও তারকা ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ম্যাচ শেষ করেই আমাদের লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে হচ্ছে, যা দলের খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়। এই বৈরী পরিস্থিতিতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার উচিত ছিল আমাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সাহায্য করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের জন্য সবকিছুই এখন এক একটা বড় বিপর্যয়ের মতো রূপ নিচ্ছে।”
মাঠের বাইরে চরম রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে থাকা ইরান ফুটবল দল এই বৈষম্যমূলক আচরণের পরও টুর্নামেন্টে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।