
তীব্র সমালোচনার মুখে বিশ্বকাপ ফুটবলের মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ফিফা। তবে বিষয়টি সেখানেই শেষ করতে রাজি নয় ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত কোনো নথি বা ডিজিটাল তথ্য ধ্বংস, মুছে ফেলা কিংবা পরিবর্তন না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দ্য টেলিগ্রাফের হাতে আসা ওই চিঠিতে উয়েফা জানিয়েছে, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’-এর পরিকল্পনা ঘিরে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, সালিসি প্রক্রিয়া কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি তারা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
চিঠিতে উয়েফা লিখেছে, ‘আপনি (ইনফান্তিনো) এবং ফিফাকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে এই নোটিশে উল্লেখিত সব নথি ও ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষিত তথ্য শনাক্ত, অনুসন্ধান এবং সংরক্ষণ করা হয়।’
আরও কঠোর ভাষায় উয়েফা সতর্ক করে বলেছে, ‘এই নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কোনো নথি ধ্বংস, মুছে ফেলা, পরিবর্তন, গোপন কিংবা হারিয়ে গেলে তা প্রমাণ নষ্ট করার শামিল হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রতিকার, নিষেধাজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যয় আরোপের আবেদন করার অধিকার উয়েফার রয়েছে।’
শুধু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোই নন, ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার, মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামোর এবং পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছেও সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিতে ফিফাকে অনুরোধ করেছে উয়েফা।
একই ধরনের চিঠি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জশুয়া কুশনার, গ্রেগ ম্যাফেই, জেপি মরগান এবং ওপেনইকোনমিকসের কাছেও পাঠিয়েছে উয়েফা। তাদেরও জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি সংস্থাটি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে দ্য টেলিগ্রাফ ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি সংস্থাটি।
ফিফার পরিকল্পনা ছিল একটি নতুন বাণিজ্যিক ইউনিট গঠন করে এর প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল তাদের। নতুন ইউনিটটি বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও পরিচালনাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করত।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এএফসিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক কনফেডারেশনের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে ফিফা। চারদিক থেকে সমালোচনা শুরু হলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ‘মনোযোগ দিয়ে শোনার পর’ তারা পরিকল্পনাটি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।