
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম এটি জমা দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হান্নানুল ইসলাম বলেন, “আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা আটজনের বিষয়ে তদন্ত করেছি। সাতজনকে অভিযোগপত্রে যুক্ত করার সুপারিশ করেছি, যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আগের তদন্তে উঠে আসা ২১ জনসহ মোট ২৮ জনের নামে ১৭ ডিসেম্বর আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।”
এর আগে শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান গত বছরের ১ জানুয়ারি ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে অন্য আটজনকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় বাদী নারাজি জানালে আদালত শুনানি শেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে নাম উল্লেখিত আসামিরা হলেন: জালাল মিয়া (২৬), সুমন মিয়া (২১), মোত্তাকিন সাকিন শাহ (২৪), আল হোসেন সাজ্জাদ (২৩), আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ (২৪), ওয়াজিবুল আলম (২২), ফিরোজ কবির (২৩), আব্দুস সামাদ (২৪), সাকিব রায়হান (২২), ইয়াছিন আলী গাইন (২১), ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম (২২), ফজলে রাব্বি (২৪), শাহরিয়ার কবির শোভন (২৪), মেহেদী হাসান ইমরান (২৫), রাতুল হাসান (২০), সুলতান মিয়া (২৪), নাসির উদ্দীন (২৩), মোবাশ্বের বিল্লাহ (২৫), শিশির আহমেদ (২২), মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি (২৩), আব্দুল্লাহিল কাফি (২১), শেখ রমজান আলী (২৫), রাশেদ কামাল অনিক (২৩), মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ (২৪), আবু রায়হান (২৩), রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ (২৪), রাব্বিকুল রিয়াদ (২৩) ও আশরাফ আলী মুন্সী (২৬)।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
পিবিআইর সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন ৭টা ৪০ মিনিট ১০ সেকেন্ডে ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হলের মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করেন। ৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর মাঠে পৌঁছে খেলা পরিচালনার মঞ্চের পাশ দিয়ে বসার ৫৭ সেকেন্ডের মধ্যে তাকে চোর সন্দেহে মারধর করা হয়। এরপর ছাত্ররা তাঁকে মূল ভবনের দিকে নিয়ে যায়।
২৫ মিনিট জেরার পর একদল ছাত্র বুঝতে পারেন যে, মুঠোফোন চুরির সঙ্গে ভুক্তভোগীর কোনো সম্পর্ক নেই। তাকে ক্যানটিনে খাওয়ানো হলেও পরে আবার মারধর করা হয়। শিক্ষকরা এসে তাকে উদ্ধার করতে চেষ্টা করেন, শেষ পর্যন্ত রাত ১০টা ৫২ মিনিটে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যার মামলা ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। ২৫ সেপ্টেম্বর নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়ের করা মামলার সঙ্গে একইসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।