
রাজধানীর রামপুরায় এক মাদরাসাছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মো. শিহাব হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তের মধ্যেই একই মাদরাসার আরও চার শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বনশ্রীর সি ব্লকের একটি হিফজ মাদরাসা থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় শিশুটির শরীরে যৌন নির্যাতনের আলামত দেখতে পান তারা। এরপর মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজন শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগের তথ্য সামনে আসে।
এ ঘটনায় পরে আব্দুল্লাহর মা টুকু আরা খাতুন রামপুরা থানায় মামলা করেন। মামলায় শিহাব হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর শিহাব মাদরাসা ছেড়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে পাবনার বেড়া উপজেলার খাকছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, নিহত শিশুকে নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই মামলাতেই শিহাবকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার শিহাব ওই মাদরাসারই শিক্ষার্থী। ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।