
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার নজিবপুর শুঁটকি পল্লীতে অবৈধভাবে শাপলাপাতা মাছ ও হাঙর শুকানোর অভিযোগ উঠেছে। উপকূলীয় এ জনপদের বিভিন্ন শুঁটকি পল্লীতে সংরক্ষিত সামুদ্রিক প্রজাতির এসব মাছ প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর সরেজমিনে মহিপুরের নজিবপুর এলাকার খালগোড়া শুঁটকি পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ শুকানোর জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এসব মাছের মধ্যে শাপলাপাতা ও হাঙরও রয়েছে।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ, পরিবহন, বিক্রি ও সংরক্ষণে সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত প্রজাতির শাপলাপাতা মাছ ও হাঙর আহরণ এবং বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ সামুদ্রিক সম্পদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
শহিদুল ফরাজি নামে এক শুঁটকি ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে শাপলাপাতা মাছ ও হাঙর প্রক্রিয়াজাত করতে দেখে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার অনুমোদন থাকার কথা দাবি করেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে শুঁটকি ব্যবসায়ী শিপনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
শহিদুল ফরাজির প্রতিষ্ঠানের পাশেই শিপনের আরেকটি বড় শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানেও বিভিন্ন প্রজাতির শাপলাপাতা মাছ ও হাঙর শুকাতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিপন বলেন, ‘আমরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে জানি না। তবে শাপলাপাতা ও কিছু প্রজাতির হাঙর ক্রয়-বিক্রয় ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ, তা জানি। আমাদের এ বিষয়ে জানানো হলে আমরা আর এসব মাছ শুঁটকি তৈরির জন্য কিনব না।’
এ বিষয়ে মহিপুর বন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০২৬ অনুযায়ী শাপলাপাতা মাছ ও হাঙর ধরা, ক্রয়-বিক্রয় এবং সংরক্ষণ সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের কোনো কাজের জন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, উপকূলীয় এলাকায় সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণে যথাযথ নজরদারি না থাকলে নিষিদ্ধ ও সংরক্ষিত প্রজাতির মাছের বাণিজ্য বন্ধ করা কঠিন। তাই শুঁটকি পল্লীগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অবৈধ আহরণ ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।