.jpeg)
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির শ্রীনগর শাখায় আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় ৩১৫ জন গ্রাহকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা আমানত আটকে পড়েছে। এসব আমানতের অর্থ ফেরত চেয়ে অগ্রণী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ দ্রুত ফেরতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন অগ্রণী ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
গ্রাহকদের দাবি, শ্রীনগর শাখায় সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় ৩১৫ জন গ্রাহক তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ, ব্যবসায়িক মূলধন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য জমানো অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা, মানসিক চাপ ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। অনেকের স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে।
তাঁরা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই আস্থার ওপর নির্ভর করেই গ্রাহকরা তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু শ্রীনগর শাখার অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় তাঁদের সেই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ব্যাংকের কোনো অনিয়ম বা জালিয়াতির কারণে সাধারণ আমানতকারীরা যেন তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, শ্রীনগর শাখায় সংঘটিত আর্থিক জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা।
এ ছাড়া জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সব গ্রাহকের আমানত, পাওনা অর্থ ও আর্থিক ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের বৈধ ও প্রমাণিত আমানতের অর্থ দ্রুত ফেরত দিতে কার্যকর ও সময়সীমাবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও ব্যাংকিং বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্তের অগ্রগতি, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করা।