
ভারতে পাচারের শিকার নারী-পুরুষ-শিশুদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে বেনাপোলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে হাফওয়ে শেল্টার হোম।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বেনাপোলে হোটেলে সান রুফে আয়োজিত হাফওয়ে হোমের এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) পরিচালিত 'গ্লোবাল অ্যাকশন এগেইনেস্ট ট্রাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্টস' প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোর।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল ও প্রতিবন্ধী-বান্ধব সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করাই এই হাফওয়ে হোমের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এখানে ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসন, নিরাপদ আশ্রয়, খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা, আইনি সহায়তা এবং মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হবে।
বেনাপোলের ভবেরবেড় এলাকায় স্থাপিত এই শেল্টার হোমটিতে একসঙ্গে ৩০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত এখানে রাখা হবে। কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য একজন হোম ম্যানেজার, একজন হোম মাদার, দুজন মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলরসহ নয় সদস্যের একটি দক্ষ টিম নিয়োজিত রয়েছে।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর প্রদীপ দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাসনীম বিনতে করিম,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেনাপোল পৌর প্রশাসক ফজলে ওয়াহিদ, প্রেসক্লাব বেনাপোলের সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন।
এসময় হাফওয়ে হোমের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন রাইটস যশোরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এস এম আজহারুল ইসলাম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।