
উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে জমজমাটভাবে এগিয়ে চলেছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। মাঠের লড়াইয়ে ইতোমধ্যে ৮টি ম্যাচ সম্পন্ন হলেও, মাঠের বাইরে এক অদ্ভুত জার্সি-বিতর্কে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কড়া নজরদারিতে পড়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মিশর। ফুটবল ইতিহাসে কখনো বৈশ্বিক ট্রফির স্বাদ না পেলেও নিজেদের জার্সিতে সাত-সাতটি তারকা খচিত করে খেলতে নামায় সালাহদের দেশের ওপর বেশ চটেছে বিশ্ব ফুটবলের এই অভিভাবক সংস্থা।
ফিফার স্পষ্ট ও কঠোর নিয়মানুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনো দেশের জার্সিতে তারকা খচিত করার অধিকার কেবল তাদেরই রয়েছে, যারা অন্তত একবার হলেও বিশ্বমঞ্চের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে। যেহেতু মিশর কখনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারেনি, তাই তাদের জার্সিতে কোনো ধরনের তারকা চিহ্ন রাখা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ফিফা।
ফারাওদের দেশ হিসেবে পরিচিত মিশর মূলত মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট ‘আফ্রিকান কাপ অব নেশনস’-এ রেকর্ড সর্বোচ্চ সাতবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবকে স্মরণীয় করে রাখতেই তাদের জার্সিতে এই সাতটি তারকা ব্যবহার করে থাকে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন জার্সি গায়ে জড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘খেলোয়াড়দের যে জার্সি পরতে দেখা গেছে, তা রুটিন সেশনের অংশ। প্রকৃতঅর্থে ফিফা চার মাস আগেই আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, জার্সিতে তারকা চিহ্ন রাখা যাবে না।’
শুধু জার্সির তারকাই নয়, সালাহ-মারমৌশদের জার্সির নম্বরের রঙ নিয়েও আপত্তি তুলেছে ফিফা। সাধারণত মিশরীয় ফুটবলারদের জার্সির পেছনে সোনালি রঙে নম্বর লেখা থাকে। তবে দূর থেকে বা মাঠে তা সঠিকভাবে দৃশ্যমান না হওয়ার অজুহাতে ফিফা সোনালি রঙের পরিবর্তে সাদা রঙ ব্যবহার করে জার্সি নম্বর লেখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এই পোশাক জটিলতা নিয়ে মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাদের অফিশিয়াল জার্সি প্রস্তুতকারক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘পুমা’ ইতিমধ্যেই ফিফার নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন ডিজাইনের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ফুটবল বিশ্বের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জার্সিতে ৫টি তারকা, ৪ বারের বিজয়ী জার্মানির জার্সিতে ৪টি তারকা এবং কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বর্তমান ট্রফিধারী আর্জেন্টিনার জার্সিতে ৩টি তারকা খচিত থাকে।