
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (EPL) দর্শকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ‘গগলস’ উদযাপনটি এবার দেখা গেল ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিশ্বমঞ্চে। বুড়ো আঙুল ও তর্জনী দিয়ে বৃত্ত তৈরি করে চোখের সামনে চশমার মতো তুলে ধরা এই উদযাপনের মাধ্যমে বারবার আলোচনায় আসেন স্কটিশ তারকা জন ম্যাকগিন।
মূলত তাঁর ভাগ্নে জ্যাকের দুর্বল দৃষ্টিশক্তির কারণে সুরক্ষামূলক স্পোর্টস গগলস পরে মাঠে নামতে হয়, আর ভাগ্নের প্রতি সেই ভালোবাসা থেকেই ম্যাকগিনের এই বিশেষ উদযাপন। বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ সেই চিরচেনা উদযাপন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল স্কটল্যান্ডকে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়ার মাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোর বস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে হাইতিকে ১–০ গোলে হারিয়েছে স্কটল্যান্ড। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা এই দলটি জয় দিয়েই তাদের বিশ্বমঞ্চের অভিযান শুরু করল। একই সঙ্গে এবারের ২০২৬ আসরে প্রথম ইউরোপিয়ান দল হিসেবে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিল স্কটিশরা।
ম্যাকগিনের সেই একমাত্র গোল
ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি আসে প্রথমার্ধে সেই জন ম্যাকগিনের পা থেকেই। অ্যাস্টন ভিলার এই তারকা মিডফিল্ডার ১০ বছর ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন এবং এর আগেও দেশের হয়ে ২০টি গোল করেছেন; তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে পাওয়া এই গোলটিকেই তিনি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় গোল বলে বিবেচনা করছেন।
অন্যদিকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ হাইতির জন্যও এই ম্যাচটি ছিল একটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দুর্দান্ত লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত হারের তিক্ততা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। পুরো ম্যাচে বল দখলের লড়াই প্রায় সমান-সমান ছিল। হাইতি গোলের উদ্দেশ্যে ১৩টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে স্কটল্যান্ড ৮টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রাখে। তবে তুলনামূলকভাবে অভিজ্ঞ ও গোছানো ফুটবল খেলে ম্যাচ বের করে নেয় স্কটিশরা।
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি
ম্যাচ শুরুর পর থেকেই দ্রুত মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্কটল্যান্ড। সপ্তম মিনিটে ম্যাকগিনের ব্যাকহিল পাস থেকে অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসনের চমৎকার ক্রসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা স্কট ম্যাকটমিনের হেড পোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। আক্রমণ অব্যাহত রেখে ১৭তম মিনিটে বেন গ্যানন-ডোকের সাজানো আক্রমণ থেকে ম্যাকটমিনের নেওয়া আরেকটি জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
অবশেষে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় স্কটল্যান্ড। চে অ্যাডামসের চমৎকার পাস থেকে গ্যানন-ডোক বল বাড়িয়ে দেন বক্সের ভেতর থাকা ম্যাকগিনকে। তাঁর নেওয়া শটটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কিছুটা দিক পরিবর্তন করে হাইতির গোলকিপারকে পুরোপুরি পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায় (১-০)।
দীর্ঘ খরা কাটল স্কটল্যান্ডের
প্রথমার্ধের শেষ দিকে হাইতি গোল শোধে মরিয়া হয়ে চাপ সৃষ্টি করলেও স্কটিশ ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলের মধ্যে বেশ কিছু আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হয়। ৭২তম মিনিটে ম্যাকগিন ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেলেও তাঁর শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল হাইতি, তবে ফঁসদি পিহোর নেওয়া হেডটি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে তাদের পয়েন্ট পাওয়ার আশা শেষ হয়ে যায়।
স্কটল্যান্ডের জন্য এটি ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপে প্রথম জয়। এর আগে বিশ্বমঞ্চে তারা শেষবার জয়ের মুখ দেখেছিল ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে, সুইডেনের বিপক্ষে। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে পূর্ণ ৩ পয়েন্টের স্বাদ পেল তারা। এই জয়ের ফলে ‘সি’ গ্রুপে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল স্কটল্যান্ড। এই গ্রুপের অন্য হাইভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে শক্তিশালী ব্রাজিল। আগামী শনিবার স্কটল্যান্ডের পরবর্তী প্রতিপক্ষ মরক্কো।