
বিএনপির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তার প্রশ্নে ইসলামী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ এবং এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির অর্থনৈতিক নীতিতে কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, বিএনপি যখনই সরকারে ছিল তখন অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, ম্যাক্রো ইকোনমিক স্থিতিশীলতা বা শেয়ারবাজার নিয়ে কোনো বড় প্রশ্ন ওঠেনি।
তিনি আরও বলেন, যারা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে বিদেশে পালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব অর্থ উদ্ধারে সরকার দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আইনি ফার্মের সহায়তা নিচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকার একদিকে সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে কাজ করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রিকভারি ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অর্থ উদ্ধার সম্ভব হবে।
লিখিত জবাবে তিনি আরও জানান, পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের জন্য দুদক, সিআইডি, শুল্ক ও গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত করছে এবং আদালতে একাধিক মামলা করা হয়েছে।
এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তিনি স্বীকার করেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, ফলে চলতি অর্থবছরে কত টাকা উদ্ধার হবে তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।