
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো তৃণমূলের কান্ডারিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসছে বিএনপি। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর দলটির এই আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে সরকার ও দলের মধ্যকার সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনা দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভার সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারী
শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই সাংগঠনিক সভা শুরু হবে। সভার প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী জানান, এতে বিএনপি ছাড়াও দলটির তিনটি শক্তিশালী অঙ্গসংগঠন—জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিটি জেলা ও মহানগর ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করাই এই সভার মূল লক্ষ্য। রুহুল কবীর রিজভী সাংবাদিকদের বলেন:
‘নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও দলীয় সংগঠনকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভায় উপস্থিত থেকে তৃণমূল নেতাদের দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।’
সরকার ও দলের সমন্বয়
সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। সভার বিশেষ দিক হলো—তৃণমূলের নেতারা সরাসরি তাঁদের সাংগঠনিক সুবিধা-অসুবিধা ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
পাশাপাশি, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত কয়েক মাসে যেসব কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং যা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা তথ্যবহুল বিশ্লেষণ উপস্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের নেতাদের সরকারের সাফল্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সরকার গঠনের পর প্রথম এই বড় মাপের সাংগঠনিক সভার দিকে তাকিয়ে আছে সারা দেশের রাজনৈতিক মহল, যেখান থেকে আগামী দিনের নতুন কোনো রোডম্যাপ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।