
উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে ক্ষমতাসীনদের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে ‘রাবণ’ সাজার সাথে তুলনা করে তিনি অভিযোগ করেছেন, জনগণের ম্যান্ডেট ও আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকার চরম বৈষম্যমূলক পথে হাঁটছে।
‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ’
শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মিয়া গোলাম পারওয়ার সমসাময়িক রাজনীতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন:
‘প্রবাদ আছে, ‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ। বর্তমানে সেটিই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ৭০ ভাগ জনমতকে উপেক্ষা করে তারা প্রতারণায় মেতে উঠেছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি কেবল দেশের মানুষের সাথেই নয়, বরং নিজেদের আদর্শের সাথেও প্রতারণা করছে। নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকলেও এখন তারা গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে, যা জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উন্নয়নে আঞ্চলিক বৈষম্যের অভিযোগ
জামায়াত নেতা স্পষ্ট করেন যে, তাঁরা উন্নয়নের বিরোধী নন, তবে উন্নয়ন হতে হবে সুষম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কেবল সরকারদলীয় এমপিদের এলাকা বিবেচনা করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে:
‘তারা শুধু দেশবাসীর সঙ্গেই নয়, নিজেদের সঙ্গেও প্রতারণা করছে। নির্বাচনের আগে তারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, ভোটও দিয়েছে। এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও গণভোটের রায় মানছে না। এটি বড় ধরনের প্রতারণা ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল। আমরা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিরোধিতা করি না, বরং উৎসাহ দিই। তবে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা কিংবা সরকারদলীয় এমপিদের অগ্রাধিকার দেওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না। উন্নয়ন হতে হবে ন্যায্যতা ও সাম্যের ভিত্তিতে।’
সৈয়দপুর বিমানবন্দর ও উত্তরাঞ্চলের দাবি
মিয়া গোলাম পারওয়ার সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন, কেবল বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এলাকায় একযোগে সিটি করপোরেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি একে অযৌক্তিক দাবি করে বলেন, বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটিই হওয়া উচিত সরকারের অগ্রাধিকার।
সবশেষে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং জনমত দমনের অপচেষ্টা বন্ধ করার দাবি তোলেন।